মোবাইল দিয়ে চ্যাটজিপিটির মতো ‘নেক্সট’ অ্যাপস তৈরি করলো সিলেটের বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার এই অ্যাপসে যেকোন প্রশ্নের উত্তর জানা ও যেকোন লেখা তৈরি করা যাবে। তাছাড়া অ্যাপটিতে ‘সিলেটি আঞ্চলিক’ ভাষায়ও প্রশ্ন করলে মিলবে সকল উত্তর। আর সিলেটি ভাষায় এটাই প্রথম কোন অ্যাপ। একই সাথে আব্দুল্লাহ আল মামুনের তৈরী করা অ্যাপে অনলাইনে সব ধরনের বই পড়া ও ডাউনলোড করা, লার্ণিং গেইম, ওয়াটসআপের মতো চ্যাটিং, ছবি ভিডিও পাঠানো, সাইনটিফিক ক্যালকোলেটর ব্যবহার, রিলস আপলোডও করা যাবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থেই এই ‘নেক্সট’ অ্যাপস তৈরি করে বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের একাদ্বশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ।
‘নেক্সট’ অ্যাপস উদ্ভাবনকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বরুনী গ্রামের নানু মিয়ার একমাত্র পুত্র। এক ছেলে, তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ৬ জনের সুখের সংসার নানু মিয়ার। ‘নেক্সট টেইলর’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে নানু মিয়ার। আর আব্দুল্লাহও তার বাবার প্রতিষ্ঠানের নামে নিজের তৈরী করা অ্যাপসের নামও দিয়েছে ‘নেক্সট’। ছেলের উদ্ভাবন করা ‘নেক্সট’ অ্যাপসের ব্যাপারে পিতা তেমন একটা বুঝেন না, তবুও পুত্রের এমন সফলতায় গর্বিত পিতা নানু মিয়া। তবে পুত্রের ভবিষ্যৎ সফলতার জন্য পিতা হিসেবে সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
এব্যাপারে শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানায়, এআইয়ের যুগে স্কুল-কলেজ পডুয়া শিক্ষার্থীদের চলমান জীবনকে আরেকটু সহজ করা লক্ষ্যেই ‘নেক্সট’ নামের অ্যাপস তৈরি করাই তার মূল উদ্দেশ্য। এই অ্যাপসে এ যেকোন প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে এবং যেকোন লেখা চাইলে সহজেই তৈরি করে দিবে। বাংলা-ইংরেজী’সহ ব্যবহার করা যাবে সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায়ও। এছাড়া অনলাইনে সব বইপড়া, লানিং গেইম, ওয়াটসআপের মতো চ্যাটিং, ছবি ভিডিও পাঠানো, সাইনটিফিক ক্যালকোলেটর, রিলস আপলোডও করা যাবে। অ্যামাজনে এখন সেটা আপলোড হলেও কয়েক দিনের মধ্যে ‘প্লে স্টোরে’ এই অ্যাপস আপলোড করা হবে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও জানায়, পড়ালেখায় এ অ্যাপস অনেকটা সহজ করে তুলবে। এ অ্যাপস তৈরি করতে তার সময় লেগেছে প্রায় ৫ মাস। প্রথমে ল্যাপটপে কাজ শুরু করে ছিল। হঠাৎ ল্যাপটপটি নষ্ট হয়ে গেলে সে মোবাইলের মাধ্যমেই অ্যাপসটির কাজ সম্পূর্ণ করে। ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ হলে অ্যাপস তৈরি করতে সময় আরও অনেক কম লাগতো।
নিজেদের সহপাঠী আব্দুল্লাহ আল মামুনের এমন সাফল্যে খুব খুশি তার সহপাঠীরা। এব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহর সহপাঠি ‘শিপা বেগম ও বাদল মিয়া’ বলেন, ক্লাসের সবাই এখন আব্দুল্লাহর তৈরি করা অ্যাপস ব্যবহার করছে। আর এটা সকল শিক্ষার্থীর অনেক উপকারে লাগবে।
বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান বলেন, পাড়াগাঁয়ের একটা কিশোর তার সৃষ্ঠিশীল কাজ দেখিয়ে সবাইকে অভিভুত করেছে। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাকে দক্ষ করে তুললে, জাতি হিসেবে তার কাছ থেকে আমরা হয়তো আরও অনেক সৃষ্টিশীল কাজ উপহার পাবো। যা সমাজ ও দেশের কল্যাণে গূরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।
বিশ্বনাথ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মানিক মিয়া বলেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সে তার এমন উদ্ভাবনে বিশ্বনাথ কলেজের তথা বিশ্বনাথ উপজেলার নাম উজ্জ্বল করেছে। তাকে আরও সৃষ্টিশীল কাজ করতে উৎসাহ’সহ সকল ধরণের সহযোগিতা কলেজ থেকে করা বলে তিনি জানান।
বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, একাদ্বশ শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী হয়েও আব্দুল্লাহ আল মামুন ‘নেক্সট’ অ্যাপসটি তৈরি করে যে সফলতা দেখিয়েছে, সত্যিই তা প্রশংসার দাবী রাখে। এখন আমরাও চিন্তা করছি তাকে কিভাবে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পরিসরে পাঠানো যায়। এতে করে জাতি হিসেবে আমরাও তার কাজ থেকে আরোও বড় বড় সফলতা পেতে পারি।
For more information
আরো দেখুন