সিলেট ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রেনের চাকা ঘোরে না, বাড়ে ভোগান্তি: সিলেট রুটে রেলভ্রমণ এখন চরম যন্ত্রণার

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ণ
ট্রেনের চাকা ঘোরে না, বাড়ে ভোগান্তি: সিলেট রুটে রেলভ্রমণ এখন চরম যন্ত্রণার

ইঞ্জিন বিকল ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

সিলেটবাসীর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম রেলপথ এখন যাত্রী সাধারণের জন্য বড় এক দুঃস্বপ্নের নাম। গত কয়েক দিন ধরে এই রুটের ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। রাত ১০টার উপবন এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় কোনো বিকল্প ইঞ্জিন দিতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরে যাত্রীদের আন্দোলনের মুখে রাত আড়াইটায় ‘পারাবত এক্সপ্রেস’-এর ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেয়।

পাহাড়ি পথে কাবু জরাজীর্ণ ইঞ্জিন

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সিলেট রুটের পাহাড়ি উঁচু-নিচু পথে চলার জন্য শক্তিশালী ইঞ্জিনের প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত ও আধুনিক ইঞ্জিনের অভাবে মেরামত করা পুরনো ইঞ্জিন দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে ট্রেনগুলো। রেলওয়ের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) মো. সজিব আল হাসান জানান, “আমাদের কাছে কোনো অতিরিক্ত ইঞ্জিন নেই। একটি ইঞ্জিন ঢাকা আসার পর সেটিকে ধুয়ে-মুছে বিশ্রাম দেওয়ারও সময় পাওয়া যাচ্ছে না। সিলেট অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় সব ইঞ্জিন চলতে পারে না, ফলে একটি বিকল হলে বিকল্প ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

টিকিট আছে কিন্তু যাত্রীর জন্য নেই

সিলেট ও শ্রীমঙ্গল এলাকা পর্যটন সমৃদ্ধ হওয়ায় এই রুটে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ থাকে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন মোট ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চললেও স্টেশনে গেলেই শোনা যায় ‘টিকিট নেই’। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইন বা কাউন্টার কোথাও চাহিদা অনুযায়ী টিকিট পাওয়া যায় না। কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার রুমান আহমেদ স্বীকার করেছেন যে, “যাত্রীর তুলনায় টিকিটের বরাদ্দ অতি সামান্য, ফলে আমরা চাহিদা পূরণ করতে পারছি না।”

ব্রিটিশ আমলের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

সিলেট অঞ্চলের রেলপথটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। শত বছর পার হলেও এই রুটে বড় কোনো সংস্কার বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ফলে লাউয়াছড়া ও শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকায় ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। জরাজীর্ণ লাইন ও দুর্বল সিগন্যালিং ব্যবস্থার কারণে গতিও বাড়ানো যাচ্ছে না, যা শিডিউল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

যাত্রীদের আর্তনাদ

ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত যাত্রী জাকির হোসেন ও সাজিদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাতের ট্রেন সকালে ছাড়া হচ্ছে। অন্তত আমাদের মোবাইলে মেসেজ দিয়ে বিলম্বে ছাড়ার কথা জানালে স্টেশনে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো না। সিলেট অঞ্চলের প্রতিটি ট্রেনের ইঞ্জিন পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবি।”

উপসংহার: আধুনিকায়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত সিলেট রেলপথ এখন যেন অভিভাবকহীন। পর্যটন ও বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে অনতিবিলম্বে এই রুটে শক্তিশালী ইঞ্জিন সরবরাহ এবং অবকাঠামো সংস্কার করা না হলে যাত্রী ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে।

For more information

আরো দেখুন