গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: আয়তন ও জনসংখ্যার দিকে দিয়ে সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ উপজেলা গোয়াইনঘাট। গোয়াইনঘাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আওতায় নারী -পুরুষ মিলে বয়স্ক ভাতা ভোগী রয়েছেন ১২৪৪০ জন। বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা ভোগী -৬৯৫৪ জন। প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী -১০২৯২ জন। প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি-১৮১জন। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি-৪৭৪ জন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা-৫৮ জন। প্রায় ৩০ হাজার সুবিধাভোগীর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঋণ কার্যক্রম, রোগীকল্যাণ সমিতি, উপজেলা সমাজকল্যাণ কমিটির কার্যক্রমসহ সরকারের নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন ইউনিয়ন সমাজকর্মী। ট্রেড ইন্সট্রাকটর ৩ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন। এছাড়াও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরও নেই। বর্তমানে ৩০ হাজার সুবিধাভোগীর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার,ফিল্ড সুপারভাইজার,ইউনিয়ন সমাজকর্মী,ট্রেড ইন্সট্রাকটর ও অফিস সহায়ক মিলে ৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী দিয়ে ৩০ হাজার সুবিধাভোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জনবল সংকটে সামাজিক নিরাপত্তাভোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সামাজিক নিরাপত্তাভোগীরা প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হচ্ছেন নানাবিধ সমস্যার। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এমনকি যে কোনো ভাতা পেতেও বেগ পোহাতে হচ্ছে সুবিধাভোগীদের। প্রত্যন্ত উপজেলা হওয়ায় দূর-দূরানে্তের গ্রাম থেকে হেঁটে সেবা নিতে এসে অনেককেই অফিসে পাওয়া না। সেবা নেয়ার আশায় দীর্ঘ সময় বসে থাকলেও মেলে না কোনো সেবা। বুধবার (২০ নভেম্বর) বেলা আড়াই ঘটিকায় সমাজসেবা কার্যালয়ে উপস্থিত হলে রুস্তুমপুর ইউনিয়নের তাহমিনা আক্তার বলেন, আমার বাবা অসুস্থ। বয়স্ক ভাতার টাকা মোবাইলে দেবে তাই কম্পিউটারে কাজ করতে এবং বিকাশ নাম্বার দিতে অফিসে এসে পাওয়া যায়নি কাউকে। অফিসে লোকজন না থাকায় আমরা হয়রানির মধ্যে আছি। নন্দিরগাওঁ ইউনিয়নের চলিতাবাড়ি গ্রামের ময়দর মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছি কিন্তু এখন বলছে আর ভাতা পাওয়ার সুযোগ নেই। অফিসে লোক না থাকার সমস্যার সমাধান পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, ভোটার কার্ড হওয়ার আগে থেকে আমি ভাতা পাচ্ছি। এখন কেন পাই না তাও জানতে পারলাম না বারবার অফিসে গিয়েও। সেবা না পেয়ে অভিযোগ করেন পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের অনেক গ্রামেরই ভাতাভোগীরা। এ বিষয়ে অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে কোন কর্মকর্তা না থাকায় উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন সমাজকর্মী বলেন, আসলে অফিসে জনবল সংকটের কারণে সুবিধাভোগীরা সমস্যায় আছে বুঝতে পারলেও কিছু করার নেই। যদিও আমি ফতেহপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে আছি। সঙ্গতকারণেই প্রত্যেক ইউনিয়নে গিয়ে সুপারভাইজরের কাজও করতে হয়। সকল ইউনিয়নে সমাজকর্মী থাকলে হয়তো আমি নিজ ইউনিয়নের বাইরে যেতে হতো না। অফিসে সুবিধাভোগীদের এমআইএসের (ম্যানেজমেন্ট ইমফরমেনশন সিস্টেম) কাজগুলো করে দিতে পারতাম। বর্তমানে মোবাইলে টাকা দেয়া হচ্ছে তাই এমআইএসের কাজ খুবই জরুরি। এমআইএস সম্পন্ন না হলে টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর কিছু কিছু টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে, তাও তুলনামূলক কম।
For more information
আরো দেখুন|