শোক থেকে শক্তি: নির্বাচনের লক্ষ্যে নতুন যাত্রা
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির ভেতরে যে ‘বিরাট শূন্যতা’ তৈরি হয়েছে, তাকে শক্তিতে রূপান্তর করে সামনে এগোতে চায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন লক্ষ্য স্থির করছে বিএনপি। ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া যেভাবে দলকে তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর সেই আদর্শকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।
খালেদা জিয়া-উত্তর যুগে তারেক রহমানের নেতৃত্ব
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে বিএনপি এখন পুরোপুরি ‘খালেদা জিয়া-উত্তর’ যুগে প্রবেশ করেছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সাধারণ কর্মী—সবার কাছেই এখন নেতৃত্বের মূল ভরসা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়া শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দলের ‘নৈতিক ভারকেন্দ্র’ এবং ‘ঐক্যের প্রতীক’। তবে গত কয়েক বছর ধরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ‘প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ’ হওয়ায় বড় ধরনের কোনো সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন,
“তারেক রহমান লম্বা সময় ধরে সুদূর লন্ডন থেকে যেভাবে দল পরিচালনা করেছেন, তাতে বেগম জিয়ার অনুপস্থিতি সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ না হলেও অভিভাবকত্বের অভাব সব সময় অনুভূত হবে। তবে বর্তমানে স্থায়ী কমিটির ঘন ঘন বৈঠক এবং দলীয় অভিজ্ঞতায় তারেক রহমান এখন অনেক বেশি সামর্থ্যবান।”
সিলেট থেকে শুরু হবে নির্বাচনী মিশন
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মা খালেদা জিয়ার প্রথা অনুসরণ করেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার।
সূচনা: বরাবরের মতো সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন তারেক রহমান।
বগুড়া সফর: আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করার আগে তিনি তাঁর পৈত্রিক ভূমি বগুড়ায় যেতে পারেন।
আসন্ন লড়াই: তারেক রহমান নিজে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,
“খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামী নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বই দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে।”
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জাতির স্বার্থে তারেক রহমানকে ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে দৃঢ় থাকতে হবে এবং দল সেই লক্ষ্যেই কর্মসূচি চূড়ান্ত করছে।
নির্বাচনী ক্যালেন্ডার একনজরে:
২১ জানুয়ারি: প্রতীক বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু।
১০ ফেব্রুয়ারি: প্রচারণার শেষ সময় (সকাল সাড়ে ৭টা)।
১২ ফেব্রুয়ারি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
উপসংহার: খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বিএনপি পরিবার শোকাতুর হলেও নির্বাচনী ময়দানে তারা এখন অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ। ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ খ্যাত এই নেত্রীর স্মৃতিকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে জয়ের স্বপ্ন দেখছে দলটি।
For more information
আরো দেখুন