গঠনতান্ত্রিক উত্তরাধিকার: ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণ চেয়ারম্যান
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই এখন দলটির শীর্ষ পদ অর্থাৎ ‘চেয়ারম্যান’ পদে আসীন হতে যাচ্ছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির এই সর্বোচ্চ পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে টানা ৪১ বছর এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন খালেদা জিয়া।
গঠনতন্ত্র কী বলে? বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে:
“যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন।”
এই ধারা অনুযায়ী, তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এখন বিএনপির চেয়ারম্যান। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, যা এখন স্থায়ী রূপ নিতে যাচ্ছে।
শিগগিরই আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থায়ী কমিটির বিশেষ বৈঠকে তারেক রহমানকে ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হতে পারে।
তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বর্তমানে পুরো পরিবার এবং দল শোকাবহ। এই মুহূর্তে পদ-পদবি নিয়ে কারো কোনো তাড়া নেই, তবে সাংগঠনিক প্রয়োজনে নিয়ম অনুযায়ী সব সম্পন্ন হবে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা
তারেক রহমানের রাজনীতিতে উত্থান এবং বর্তমান অবস্থানে আসার পরিক্রমা বেশ দীর্ঘ:
১৯৮৮: বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে হাতেখড়ি।
১৯৯১ ও ১৯৯৬: দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
২০০২: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে অভিষেক।
২০০৯: দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান’ নির্বাচিত হন।
২০১৮: বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর লন্ডনে অবস্থানকালেই ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ মনোনীত হন।
২০২৫ (২৫ ডিসেম্বর): দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বীরের বেশে দেশে প্রত্যাবর্তন।
নেতৃত্বের নতুন চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমান সরাসরি দলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। তাঁর সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো দলের সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় এই নেতা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সর্বোচ্চ পদে বসে কোন পথে বিএনপিকে এগিয়ে নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
For more information
আরো দেখুন