নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী পরিকল্পনা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের অসম্পূর্ণ ও বৈশ্বিক কিছু সামাজিক আন্দোলনের কাজে মনোনিবেশ করবেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত রোববার (১১ জানুয়ারি) আকিয়ে আবের সঙ্গে বৈঠকে তিনি তাঁর ৩টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা জানান:
১. ডিজিটাল হেলথকেয়ার ডেভেলপমেন্ট (স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন)
ড. ইউনূসের প্রথম অগ্রাধিকার হলো প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
লক্ষ্য: বিশেষ করে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নারীদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
প্রবাসী সুবিধা: প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে দেশের বাইরে বসেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা।
২. তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি (বেকারত্ব দূরীকরণ)
তিনি মনে করেন, চাকরি নয় বরং উদ্যোক্তা হওয়াই বর্তমান সময়ের সমাধান। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা ও সুযোগ তৈরি করতে তিনি তাঁর কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করবেন।
৩. ‘থ্রি জিরো’ (3 Zero) পদ্ধতি বাস্তবায়ন
ড. ইউনূসের বৈশ্বিক ভিশন হলো ‘থ্রি জিরো’ বা তিনটি শূন্য। তিনি তাঁর এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করে যাবেন।
শূন্য দারিদ্র্য (Zero Poverty)
শূন্য বেকারত্ব (Zero Unemployment)
শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ (Zero Net Carbon Emission)
জাপান সফর ও সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশন
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ড. ইউনূস জাপানের সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের (Sasakawa Foundation) আমন্ত্রণে সে দেশ সফর করবেন। এই ফাউন্ডেশন মূলত সমুদ্র গবেষণা (Ocean Research) নিয়ে কাজ করে। ড. ইউনূস সেখানে একটি কনফারেন্সে যোগ দেবেন এবং বাংলাদেশের সমুদ্র গবেষণায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন।
পরিপার্শ্ব: শিনজো আবের সঙ্গে ড. ইউনূসের গভীর ব্যক্তিগত ও পেশাদার সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে আকিয়ে আবে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
For more information
আরো দেখুন