আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চার মাসব্যাপী চলমান নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে পুনরায় বড় ধরনের নৃশংসতা শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত গাজার উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় চালানো নির্বিচার হামলায় ৬ শিশুসহ অন্তত ২৯ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন。
হামলার ভয়াবহতা: কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও গোলন্দাজ বাহিনী গাজা সিটির জনবহুল এলাকা থেকে শুরু করে মানবিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে。 দিনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলাটি হয়েছে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে। সেখানে ঘুমের মধ্যেই ইসরায়েলি গোলার আঘাতে ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬টি নিষ্পাপ শিশু রয়েছে。 প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসা মানুষগুলো কোনো সতর্কতা ছাড়াই কামানের গোলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
শেখ রেদওয়ানে পুলিশ সদরদপ্তরে হামলা: গাজা সিটির শেখ রেদওয়ান এলাকায় অবস্থিত পুলিশ সদরদপ্তরে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন。 ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্রতায় ভবনটি ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, শনিবারের এই নতুন হামলায় আহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে。
হামাস ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে。 তারা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী লঙ্ঘন করে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে。 হামাস হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই আগ্রাসন চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
জানুয়ারির শেষ দিকে এসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বারবার অভিযান পরিচালনা করায় চার মাসব্যাপী এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কায় রূপ নিয়েছে。 উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা নিহতের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারে。
For more information
আরো দেখুন