গুঞ্জনের সূত্রপাত ও প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি পশ্চিমা কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয় যে, ইরানে চলমান তীব্র বিক্ষোভের মুখে আয়াতুল্লাহ খামেনি তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে ‘দ্য টাইমস’ এবং ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর মতো গণমাধ্যমগুলোতে ‘প্ল্যান বি’ (Plan B) শিরোনামে এমন খবরের উল্লেখ করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা মস্কোতে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইরানি দূতাবাসের কড়া প্রতিবাদ
এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানি দূতাবাসগুলো জরুরি বিবৃতি প্রদান করেছে। দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশত্যাগের খবরটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এটি মূলত চলমান বিক্ষোভকে উসকে দেওয়ার জন্য বিদেশি শক্তিগুলোর একটি মনস্তাত্ত্বিক অপপ্রচার।
খামেনি বর্তমানে তেহরানেই অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত সরকারি কার্যাবলি পরিচালনা করছেন।
তেহরানের বর্তমান বাস্তবতা
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) তেহরানে এক জনসভায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে খামেনি ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণে তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভাড়াটে’ ও ‘নাশকতাকারী’ হিসেবে অভিহিত করে পরিস্থিতি কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দেন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরান কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না।
বিশ্লেষকদের মতামত
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যে বিক্ষোভ চলছে, তা দমনে সরকার বেশ চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের মনোবলে ফাটল ধরাতে এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ধরণের ‘দেশত্যাগের গুঞ্জন’ ডালপালা মেলেছে। তবে এখন পর্যন্ত খামেনির তেহরান ত্যাগের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এক নজরে বর্তমান অবস্থা:
গুঞ্জন: খামেনি ২০ জন ঘনিষ্ঠ লোকসহ রাশিয়ায় পালিয়ে যাচ্ছেন।
সত্যতা: গত শুক্রবারও তিনি তেহরানে জনসমক্ষে ভাষণ দিয়েছেন।
দূতাবাসের বক্তব্য: এটি একটি সাজানো নাটক ও গুজব।
মার্কিন অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন খামেনি ‘কোথাও যাওয়ার জায়গা খুঁজছেন’।
For more information
আরো দেখুন