সিলেট ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইসরায়েল গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়ে আপত্তি, আজ জোট সরকারের বৈঠক

News Room
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ণ
ইসরায়েল গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়ে আপত্তি, আজ জোট সরকারের বৈঠক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় হোয়াইট হাউস ঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের সিদ্ধান্তকে এসেছেন আপত্তি। বিষয়টি নিয়ে আজ রোববার তার নেতৃত্বে জোট সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে একটি উচ্চস্তরের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করা হবে।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস অঙ্গীকার করেছিল গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করা হবে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের অধীনে কাজ করবে। এই শান্তি পর্ষদের চেয়ারপারসন হিসেবে থাকছেন ট্রাম্প নিজেই, এবং এটি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যস্থতাসহ গাজার স্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

এই কমিটিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, কাতারের কূটনীতিক আল আল-থাওয়াদিস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনীতিকের নাম থাকায় এর ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া মার্কিন আমন্ত্রণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই পর্ষদে যোগ দিচ্ছেন, যা সামগ্রিক অঞ্চলের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় গত শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলকে ছাড়াই এই অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে, যা ইসরায়েলি নীতির পরিপন্থী। নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে বিবৃতিতে বিশেষভাবে আপত্তির কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা ও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ইসরায়েলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

ইসরায়েলের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, আজকের বৈঠকে জোট সরকারের নেতারা অন্তর্বর্তী প্রশাসন ও শান্তি পর্ষদে কারা অংশ নিয়েছেন তা নিয়ে আলোচনা করবেন। এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের জিউশ পাওয়ার দলের নেতারা।

অন্যদিকে, শান্তি পর্ষদে যোগদানের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস প্রেস ক্লাবে সদস্যদের নাম ঘোষণা করে, যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম রয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, এরদোয়ান ট্রাম্পের কাছ থেকে এই শান্তি পর্ষদে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। একই সাথে, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, আল-সিসি শান্তি পর্ষদে যোগদানের আমন্ত্রণটি এখন ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তবে এই উদ্যোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই উদ্যোগের কার্যকারিতা এবং বাস্তবে এটি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতোটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে সংশয় বিরাজ করছে।

For more information

আরো দেখুন