৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত, ৩০ জনের বেশি আহত
গতকাল সোমবার রাতে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ তীব্রতার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই ভূমিকম্পের পর দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল জুড়ে প্রাথমিকভাবে তিন মিটার উঁচু সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা ২০ মিনিটে তুলে নেওয়া হয়। সোমবার রাতে আঘাত হানা ভূমিকম্পে ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ছিল আওমোরি প্রিফেকচারের পূর্ব উপকূলে এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৫৪ কিলোমিটার গভীরে। সুনামির সতর্কতার পর ইওয়াতে জেলায় সমুদ্র থেকে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়।
বিপদ কাটেনি: দ্বিতীয় আঘাতের কঠোর সতর্কতা
জাপান সরকার এই ভূমিকম্পকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে, বিশেষ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের একটি কঠোর সতর্কতার কারণে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একই এলাকায় ৮ বা তার চেয়ে বেশি তীব্রতার আরও একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, গত রাতের ভূমিকম্প হোক্কাইদো এবং উত্তর-পূর্ব জাপানের উপকূলবর্তী একটি খাদ বরাবর আঘাত হেনেছে। এই প্লেটের সংঘর্ষের ফলেই আগামী কয়েক দিনে আরেকটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানার আশঙ্কা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এই ভূমিকম্প হলে উত্তরের জেলা হোক্কাইদো থেকে টোকিওর পশ্চিমের চিবা জেলা পর্যন্ত জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে বড় আকারের সুনামিও আঘাত হানতে পারে।
সরকারের নির্দেশনা ও প্রস্তুতি
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মঙ্গলবার ভোররাতে টোকিওতে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: “যদি কোনো ধরনের কম্পন অনুভূত হয়, তবে সরকার থেকে জনসাধারণের প্রতি এই আহ্বান থাকছে, দয়া করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেরি না করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি সব সময় নিয়ে রাখবেন।”
জরুরী প্রস্তুতি: কর্তৃপক্ষ লোকজনকে উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের মানচিত্র দেখে বিপদে নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার পথ সম্পর্কে আগাম সজাগ থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় খাবার বা অন্যান্য জরুরি দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রম: সরকার আওমোরি প্রিফেকচারে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি দল পাঠাবে এবং প্রয়োজনে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেল পরিষেবা
২০১১ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ফুকুশিমা দাইইচি এবং দাইইনি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে এবার কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছে পরিচালক টোকিও বিদ্যুৎশক্তি কোম্পানি (টেপকো)। আওমোরি, মিয়াগি এবং হোক্কাইদো এলাকার অন্যান্য পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে পূর্ব জাপান রেলওয়ে কোম্পানি জানিয়েছে, রেলপথের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ের জন্য মোরিওকা এবং শিন-আওমোরি স্টেশনের মধ্যে তোহোকু শিনকানসেন বুলেট ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
For more information
আরো দেখুন