সিলেট , ,

সিলেটে দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তা: আতশবাজি নিষিদ্ধ, মধ্যরাতে পুলিশের সতর্কবার্তা

News Room
প্রকাশিত October 8, 2026, 09:47 PM
সিলেটে দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তা: আতশবাজি নিষিদ্ধ, মধ্যরাতে পুলিশের সতর্কবার্তা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেটের আওয়াজ:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী। উৎসবের আনন্দকে নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা জুড়ে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধ ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মধ্যরাতে পুলিশের বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে এবং জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। চলতি বছর সিলেট জেলা ও মহানগরের মোট ৬৩৬টি মণ্ডপে (জেলায় ৪৫৬টি এবং মহানগরে ১৬২টি) শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পূজার দিনগুলোতে যেকোনো ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো বা দর্শনার্থীদের বিরক্তি সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল ও নৈশপ্রহরীদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য ‘ডিউটি রেজিস্টার’ নিয়মিত সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া, সিলেট মহানগর এলাকায় রাত ৯টার মধ্যে এবং জেলার অন্যান্য উপজেলা সমূহে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জে দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মধ্যরাতে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক মধ্যরাতের এক বার্তায় সর্বসাধারণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচার ও গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানান।

পুলিশ জানায়, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি মিথ্যা তথ্য বা গুজব যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো উত্তেজনাকর বা সন্দেহজনক বিষয় নজরে এলে নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে দ্রুত পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ ও প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি উপজেলায় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি করে সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ও রেসপন্স দল (মনিটরিং সেল) গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয়ে এই উৎসবকে সার্বজনীন ও নিরাপদ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

For more information

আরো দেখুন