আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০১ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক ভয়াবহ যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তেহরানের একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাংকারে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে চালানো হলো এই সুনির্দিষ্ট হামলা
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় খামেনি তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি অতি-সুরক্ষিত গোপন স্থানে জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী ‘বাংকার-বাস্টার’ (Bunker-Buster) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালায়। আল-জাজিরার প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির সুউচ্চ প্রাসাদ ও মাটির গভীরে থাকা সুরক্ষিত বাংকারটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
নিহত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও পরিবার
হামলায় কেবল খামেনি নন, ইরানের আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
আলি শামখানি: সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব।
মোহাম্মদ পাকপোর: ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার।
আলি লারিজানি: সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব (তিনিও সে সময় বাংকারে উপস্থিত ছিলেন)।
এছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও নিহত হয়েছেন।
ভয়াবহ প্রতিশোধের অঙ্গীকার
খামেনির মৃত্যুর পর পুরো ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা একটি বড় ধরণের আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু পরবর্তী ইরানে ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।
For more information
আরো দেখুন