নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ | ১ মার্চ ২০২৬
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন ডলুরা চলতি নদীর পাড়ে সরকারি অনুমোদনকে পুঁজি করে রাতের আঁধারে অবাধে পাথর লুটের মহোৎসব চলছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দেওয়া নির্দেশনায় রাতে পাথর অপসারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও সেই শর্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২০ থেকে ২৫টি ট্রাক ভর্তি করে পাথর পাচার করছে একটি অসাধু চক্র।
অনুমোদন বনাম বাস্তব চিত্র
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডলুরা নদীর পশ্চিম পাড়ে নিলামে ক্রয়কৃত ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩২ ঘনফুট পাথরের মধ্যে অবশিষ্ট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩২ ঘনফুট পাথর অপসারণের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সেই আদেশে ৮টি শর্তের মধ্যে ৭ নম্বর শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল— ‘রাত্রিকালীন সময়ে কোনো পাথর অপসারণ করা যাবে না; সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে পাথর সরাতে হবে।’
শনিবার রাত ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডলুরার চলতি নদীর পশ্চিম পাড়ে ট্রাকের দীর্ঘ সারি। সেখানে শ্রমিকরা রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ট্রাক লোড করছেন। সরকারি কাগজের দোহাই দিয়ে এই চক্রটি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন রাতে পাথর সরিয়ে নিচ্ছে।
দায়িত্বশীলদের বক্তব্য ও লুকোচুরি
পাথর সরবরাহের দায়িত্বে থাকা শাহজাহান রাতে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে ট্রাক ভর্তি পাথর লোড হয়ে কোথায় যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রশাসনের হুঁশিয়ারি
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মতিন খান বলেন, “সন্ধ্যার দিকে পাথর লুটের খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সরকারি নির্দেশনায় রাতে পাথর অপসারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি কেউ শর্ত অমান্য করে রাতের আঁধারে পাথর সরায়, তবে পাথর অপসারণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় রাতের বেলা ডলুরা নদী থেকে পাথর পাচার দিন দিন বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।