সিলেট ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

News Room
প্রকাশিত জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন আর টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, নতুন বাংলাদেশ হবে ইনসাফ ও মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি রাষ্ট্র, যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবে শূন্য সহনশীলতা নীতি এবং সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত পলিসি সামিট–২০২৬ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে একটি দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারও দাঁড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমিরের মতে, ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি অন্ধকার অধ্যায় পার করে বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে এই পথে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও কর্মসংস্থানের মান কমে গেছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। অধিকাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক, অনিরাপদ ও স্বল্প আয়ের কাজে নিয়োজিত, যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অনুপস্থিত।

তিনি আরও বলেন, তরুণ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে রূপান্তর ঘটাতে পারছে না এবং নারীরা এখনও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, কেবল প্রবৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়; মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সক্ষমতা তৈরি করাই হওয়া উচিত প্রকৃত অর্থনৈতিক সাফল্যের মাপকাঠি।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণ। দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষ এবং দেশের বাইরে কর্মরত প্রবাসীরা অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু আর্থিক অবদান নয়, বরং দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবেও কাজ করছে।

নারীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি কেবল ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতারও একটি অপরিহার্য দিক। সুশাসনের বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনের নজির ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই তাঁদের লক্ষ্য এবং জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যাবে না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা, প্যানেলিস্ট ও বিশেষজ্ঞদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

For more information

আরো দেখুন