ঘটনার সূত্রপাত ও মারামারি
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওসমানী হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেবা দেওয়া নিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুর চালান এবং দায়িত্বরত একজন নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে হেনস্তা করেন। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
৩ জন আটক ও বর্তমান অবস্থা
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকার বাসিন্দা তিনজনকে আটক করেছে। তারা হলেন:
শিমুল আহমদ (৩৫)
নাজিরা সিদ্দিকা (৩২)
জাবেদ মিয়া (৩০)
আটককৃতদের মধ্যে নাজিরা সিদ্দিকা ও শিমুল আহমদ মারামারিতে আহত হওয়ায় তাদের সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য অভিযুক্ত জাবেদ মিয়া কোতোয়ালি থানা হেফাজতে রয়েছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও দাবি
এই হামলার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার সকাল থেকে হাসপাতালের সব ওয়ার্ডে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়:
“একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কর্তব্যরত নারী চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মস্থলে ফিরব না।”
পুলিশ ও হাসপাতাল প্রশাসনের বক্তব্য
সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দায়ের করলে আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয় | তথ্য |
| ঘটনার সময় | ১৬ জানুয়ারি, রাত ১১:৩০ মিনিট। |
| স্থান | ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ওসমানী হাসপাতাল। |
| আটক | ৩ জন (সুনামগঞ্জের বাসিন্দা)। |
| চিকিৎসকদের অবস্থান | অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি (শনিবার সকাল থেকে)। |
| নিরাপত্তা | অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন। |
For more information
আরো দেখুন