জমকালো ড্র অনুষ্ঠান, ইতিহাসে প্রথম ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট
গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান। এই ড্রয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লাইনআপ। আগামী ১১ জুন এই ফুটবল মহাযজ্ঞ শুরু হবে এবং বহু আকাঙ্ক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই।
ফিফা (FIFA) কৌশলগতভাবে র্যাঙ্কিংয়ের শক্তিমত্তা, পূর্বের আসরের পারফরম্যান্স এবং আয়োজক দেশের হিসেব করে দলগুলোকে পটে আলাদা করে লটারি করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো শিরোপা প্রত্যাশী শক্তিশালী দলগুলোর (যেমন ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা) একে অপরের সঙ্গে সেমিফাইনালের আগে যেন দেখা না হয়।
গ্রুপ বিন্যাস এবং নকআউট পর্বের নিয়ম
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে মোট ১২টি গ্রুপ (প্রতি গ্রুপে ৪টি দল) রয়েছে।
দ্বিতীয় রাউন্ড (৩২ দল): প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ ও রানারআপ দল (১২ গ্রুপ থেকে ২৪টি দল) এবং ১২ গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় হওয়া ৮টি দল—এই মোট ৩২ দল নিয়ে নকআউট পদ্ধতিতে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হবে।
কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল: এরপর নকআউটের মাধ্যমে ১৬ দল তৃতীয় রাউন্ডে এবং সেখান থেকে বিজয়ীরা কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে সেমিফাইনালে প্রবেশ করবে।
গ্রুপ অব ডেথ: যেখানে কঠিনতম লড়াই
৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এল’, গ্রুপ ‘আই’ ও গ্রুপ ‘সি’ গ্রুপগুলোকে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা ‘গ্রুপ অব ডেথ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
১. গ্রুপ ‘এল’ (ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা, ঘানা)
এটি এবারের আসরের সবচেয়ে আলোচিত ‘গ্রুপ অব ডেথ’।
ইংল্যান্ড: ইউরোপের শীর্ষ শক্তি ও ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। গ্যারেথ সাউথগেট-পরবর্তী নতুন যুগে প্রবেশ করে তারা জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেন ও ডেক্লান রাইসের মতো তারকাদের নিয়ে শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
ক্রোয়েশিয়া: ফিফা বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতার প্রতীক (২০১৮ রানার্স-আপ, ২০২২ সেমিফাইনালিস্ট)। লুকা মদরিচ, মাতেও কোভাসিচ-এর মতো টেকনিক্যাল খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।
ঘানা: আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল। শারীরিক সক্ষমতা ও গতিশীল ফুটবলে তারা যেকোনো বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
২. গ্রুপ ‘সি’ (ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি)
শক্তিমত্তা ও স্কোয়াডের গভীরতা বিবেচনায় এই গ্রুপও চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক।
ব্রাজিল: পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বড় মঞ্চের রাজা। নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো গতিশীল তারকারা দলকে নেতৃত্ব দেবেন।
মরক্কো: ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট। আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে রক্ষণ এবং কাউন্টার অ্যাটাকে তারা বিশ্বের অন্যতম সংগঠিত দল, যা ব্রাজিলকেও চাপে ফেলতে সক্ষম।
স্কটল্যান্ড: ইউরোপীয় বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা এই দলটি শক্তিশালী রক্ষণ ও সেট-পিসে দক্ষ।
৩. গ্রুপ ‘আই’ (ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ফিফা প্লে-অফ ২)
এখানেও শিরোপা প্রত্যাশী ফ্রান্সকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে।
ফ্রান্স: ২০২২ সালের রানার্স-আপ এবং শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিলিয়ান এমবাপ্পে সহ তারকায় ঠাসা ফরাসি দল।
সেনেগাল: আফ্রিকার ‘টারাঙ্গা লায়ন’ হিসেবে পরিচিত এই দলটি শক্তিমত্তার বিচারে ইউরোপীয় দলগুলোর চেয়ে পিছিয়ে নেই।
নরওয়ে: ইউরোপের উদীয়মান শক্তি।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপসমূহ