সিলেট ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কানাইঘাট সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ: ধানের তুষের নিচে লুকিয়ে ছিল বিপুল জিরা

News Room
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২৫, ০৪:৩৪ অপরাহ্ণ
কানাইঘাট সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ: ধানের তুষের নিচে লুকিয়ে ছিল বিপুল জিরা

ধানের তুষের আড়ালে বিশাল জিরার চালান

 

সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি বড় ধরনের চোরাচালান বিরোধী অভিযানে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরাসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল আটক করেছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ মালামাল মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট সেক্টরের অধীনস্থ জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) এর সুরাইঘাট বিওপির একটি বিশেষ টহল দল কানাইঘাট উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংলগ্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে।


ট্রাক আটক ও পণ্য উদ্ধার

 

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টহল দল ধানের তুষ ভর্তি একটি সন্দেহভাজন ট্রাককে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু ট্রাকটির চালক সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করে। টহল দল পিছু ধাওয়া করে সকাল ১০টার দিকে কানাইঘাট–সিলেট সড়ক থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ট্রাকটি আটক করতে সক্ষম হয়।

বিজিবি পরে ট্রাকটি তল্লাশি করে দেখতে পায় যে, ধানের তুষের বস্তার নিচে অত্যন্ত অভিনব কৌশলে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ট্রাকটি থেকে মোট ৫ হাজার ৩৬৫ কেজি জিরা উদ্ধার করা হয়। এই জিরা ও ট্রাকের সর্বমোট সিজার মূল্য ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে।


দুই দিনের অভিযানে মোট জব্দ

 

এই বড় চালানের বাইরেও, গত বুধবার সুরাইঘাট, জৈন্তাপুর এবং লালাখাল বিওপির পৃথক পৃথক টহলে জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় আরও বেশ কিছু পণ্য জব্দ করা হয়।

  • জব্দকৃত অতিরিক্ত পণ্য: ভারতীয় পিয়াজ (৩ হাজার ৬০ কেজি), জিরা (১২০ কেজি), ২টি গরু, ২টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা এবং ২টি পিকআপ।

  • সিজার মূল্য: এই মালামালের মূল্য ঊনচল্লিশ লাখ সাঁইত্রিশ হাজার দুইশ টাকা

সব মিলিয়ে দুই দিনের অভিযানে বিজিবি মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ২ হাজার ২শ টাকার মালামাল আটক করেছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। জব্দ করা মালামাল কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

For more information

আরো দেখুন