৫৮তম বিবাহবার্ষিকীতে এল সর্বোচ্চ সাজা
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ৫৮তম বিবাহবার্ষিকীর দিনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই রায় ঘোষণা করেন।
স্মর্তব্য, ১৯৬৭ সালের এই দিনে (১৭ নভেম্বর) শেখ হাসিনা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ আলী মিয়ার (সুধা মিয়া) সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়ার সময় তাঁদের বিয়ে হয়। ড. এম এ ওয়াজেদ আলী ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান।
পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত, সাজা তিন কাউন্টে
ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়। ট্রাইব্যুনাল তিনটি কাউন্টে ভাগ করে আসামিদের সাজা প্রদান করেছে।
আমৃত্যু কারাদণ্ড (অভিযোগ ১): প্রথম অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড (Imprisonment Till Natural Death) দিয়েছে। এই অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায়’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র ‘আওয়ামী সন্ত্রাসী’রা নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর পদ্ধতিগতভাবে আক্রমণ করে। এই অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ (অভিযোগ ২, ৪ ও ৫): ট্রাইব্যুনাল আরও তিনটি অভিযোগে (অভিযোগ ২, ৪ এবং ৫) শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ’ দিয়েছেন।
চতুর্থ অভিযোগে, ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ছয় জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পঞ্চম অভিযোগে, আশুলিয়াতে জীবিত একজনকে সহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আপিল করতে হলে দেশে আসতে হবে
রায় ঘোষণার আগে রবিবার ব্রিফিংয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম নিশ্চিত করেন যে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় এই মুহূর্তে তাঁদের সাজা হলে তাঁরা আপিল করতে পারবেন না।
ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। প্রসিকিউটর জানান, আপিলের সুযোগ নিতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে হবে। এর ফলে এই রায় চ্যালেঞ্জ করতে হলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসতে হবে।
For more information
আরো দেখুন