সিলেট ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকায় সাদাপাথর এখন লিলু মিয়ার

News Room
প্রকাশিত অক্টোবর ৬, ২০২৫, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকায় সাদাপাথর এখন লিলু মিয়ার

সাদাপাথর

সিলেটসহ সারাদেশে বিখ্যাত কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর। সাম্প্রতিক পাথর লুটকান্ডে সাদাপাথরের নাম ছড়িয়ে পড়েছে আরও বেশী।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের ইজারা সূত্রে মালিক এখন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মো. লিলু মিয়া। আগামী ৬ মাসের জন্য ৩ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন তিনি।

 

সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে ইজারা প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে ৭ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে লিলু মিয়া সর্বোচ্চ দর হেঁকেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিন মিয়া।

জানা গেছে, দেশ বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্র। অপরূপ পাহাড়ী ধোলাই নদীর দুধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাখ লাখ ঘনফুট সাদাপাথর আর স্বচ্ছ জলের স্রোত, বালি আর পাহাড়ীর সবুজ মিলে মনোলোভা এই পর্যটনকেন্দ্রটি উচ্চ আদালতের একটি আদেশে বছর দেড়েক নিলাম হয়নি। এবছরও পাথর লুটের ঘটনায় বিষয়টি অনেকটা অনিশ্চিত ছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত র‌্যাব পুলিশসহ প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে লুন্টনকৃত পাথর উদ্ধার ও পূণঃস্থাপন করা হয়। যদিও তা শতভাগ হয়নি বা তা সম্ভবও নয়, তবু কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, অনেকটাই আগের অবস্থায় ফিরে গেছে স্বপ্নের সাদাপাথর।

সম্প্রতি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রটি নিলামের তোড়জোড় শুরু হয়। তারিখ নির্ধারণ হয় ৬ অক্টোবর সোমবার। বিকাল সাড়ে ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ইজারা প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিকাল ৫টায় খোলা হয় দরপত্রের বাক্স। দেখা যায়, মোট ৭জন নিলামে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে ১৪৩২ বাংলা সালের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ৬ মাসের জন্য ভোলাগঞ্জ ১০নং ঘাট থেকে সাদাপাথর পর্যটন ঘাট ও ভোলাগঞ্জ ১০নং গাড়ি পাকির্ং এলাকা সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন লিলু মিয়া। সরকারি ইজারা মূল্য ছিল ১ কোটি ৯০ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৩ টাকা।

তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাহাদুরপুর-গনেশপুর গ্রামের তহুর আলীর ছেলে। লিলু মিয়া দীর্ঘদিন থেকে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে পাথার ব্যবসার সাথে জড়িত। তার একটি ক্রাশার মিলও আছে।

কোনো কারণে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লিলু মিয়া ইজারা নিতে অক্ষম হলে দ্বিতীয় দরদাতা হিসাবে কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. নজমুল ইসলাম ইজারা পাবেন। তিনি ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা দর হেঁকে আছেন দ্বিতীয় স্থানে।

তিনি ব্যর্থ হলে তৃতীয় দরদাতা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উপশহর এলাকার মো. আব্দুর রশীদের ছেলে মাওলানা মো. ইমাদ উদ্দিন সাদাপাথর ইজারা পাবেন। তিনি দর হেঁকেছেন ৩ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার ৫৫৫ টাকা

শান্তিপূর্ণভাবে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ।

For more information

আরো দেখুন