সিলেট ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটের সাবেক ডিসি কাজী এমদাদ সৌদি থেকে লাপাত্তা

News Room
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২৫, ০৯:১৪ অপরাহ্ণ
সিলেটের সাবেক ডিসি কাজী এমদাদ সৌদি থেকে লাপাত্তা

আওয়াজ ডেস্ক: ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে সিলেটের রিটার্নিং অফিসার ও সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক এবং সদ্য জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে বিদায় নেওয়া লেবার কাউন্সেলর (মিনিস্টার লোকাল) কাজী এমদাদুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। গত ৩০ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে বিদায় নেন এবং ওএসডি হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ‘যোগদান’ করেন। কাগজে কলমে এ তথ্য রয়েছে মন্ত্রনালয়ের হাতে।

কিন্তু বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত, নৌ বা বিমানবন্দরে তার প্রবেশের কোনো তথ্য নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট কারও কাছে সদ্য অবমুক্ত হওয়া সৌদি আরবস্থ জেদ্দা কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সেলর (মিনিস্টার লোকাল) কাজী এমদাদুল ইসলামের বর্তমান অবস্থানের কোনো তথ্য নেই।

সূত্রটি আরও জানায়, সশরীরে দেশে না ফিরলেও তার ‘যোগদান’ গ্রহণ করা হয়েছে। জেদ্দার বাংলাদেশ মিশনে তার পদ ফাঁকা দেখানো হয়েছে এবং মিশনের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে তার ছবি। গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে না এই আলোচিত আমলাকে।

চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকার ৩৩ জন যুগ্ম সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাকে ওএসডি করে। এদের অনেকেই ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ তালিকায় ছিলেন কাজী এমদাদুল ইসলাম, যিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ওই নির্বাচনের সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক।

২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিলেটের ডিসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কাজী এমদাদ। তার আগেই ৭ মাসের মাথায় পদচ্যুত হন তৎকালীন ডিসি নুমেরী জামান, যিনি শাসকদলের প্রতি নিরপেক্ষ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ এবং ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত কাজী এমদাদুল ইসলামকে ওই পদে পাঠানো হয়। তাঁর সময়ে সিলেটের প্রশাসন নগ্নভাবে আওয়ামীকরণ হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে

কাজী এমদাদের অতীত নিয়োগ ইতিহাসও বিতর্কের বাইরে নয়। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার গঠনের পর টুঙ্গীপাড়ায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে তার পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ঢাকায় দায়িত্ব পাওয়া তাকে ক্ষমতাসীন মহলের বিশ্বস্ত আমলাদের তালিকায় স্থান করে দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কর্মকর্তা এখন বিপুল সম্পদের মালিক। তার সম্পদের উৎস নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ফলে, তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া এবং কাগজে-কলমে দেশে ফিরে যোগদানের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন ও উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ওএসডি কর্মকর্তার পদে বহাল থাকা, কোনো স্থল বা বিমানবন্দরে প্রবেশের রেকর্ড না থাকা এবং সরকারি মহলেও তার অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা, এসবই প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন মহল।

 

For more information

আরো দেখুন

SYLAWAZ24/05/SabbirMotion