সিলেট ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

News Room
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৫, ০৫:৩২ অপরাহ্ণ
জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

সিলেটের জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ভারতের উজানের ঢল এখনো বরাক নদী দিয়ে সুরমা-কুশিয়ারায় প্রবেশ করছে। এতে কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি স্থানের ভাঙা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রামঞ্চল। তবে জকিগঞ্জ শহর থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। কেছরী গ্রামের লোকজন নিজস্ব উদ্যোগে বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামত করায় কয়েকঘন্টার মধ্যেই শহর বন্যা মুক্ত হয়।সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার ৪ ইউপির অন্তত ৫০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন বানভাসী মানুষ। এখন পর্যন্ত উপজেলার ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উজানের ঢলে কুশিয়ারার পানি বাড়তে থাকায় শঙ্কা বাড়ছে তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে। উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকার ডাইকের ওপর দিয়ে এখনো পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতেছে। স্থানীয় লোকজন বালু ভর্তি বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রাতে পাহারাও বসানো হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, খলাছড়া ইউপির লোহারমহল, ধলিগাও, কাপনা, বিরশ্রী ইউপির গড়রগ্রামসহ আশপাশ এলাকা, জকিগঞ্জ সদর ইউপির বাখরশাল, মানিকপুর, রারাই, মুমিনপুর, সুলতানপুর ইউপির ফলাহাটসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের পানি বন্দী মানুষের ভোগান্তি চরম আকারে পৌঁছেছে। অনেকের বসতঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কোন কোন এলাকায় টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানিরও সঙ্কট রয়েছে।

সরকারি তথ্যনুযায়ী সোমবার রাত ৮ টা পর্যন্ত উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৫ হাজার ২২০ জন মানুষ বন্যাক্রান্ত হয়েছেন। তবে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলায় ৫৭ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।