সিলেট ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আসছে বর্ষাকাল, ভূমিধসের আশঙ্কায় সিলেটবাসী

News Room
প্রকাশিত মে ২৭, ২০২৫, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
আসছে বর্ষাকাল, ভূমিধসের আশঙ্কায় সিলেটবাসী

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে এখনো বর্ষাকাল শুরু হয়নি আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল। তবে হাতে আছে আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই আসছে আষাঢ় মাস। এই অবস্থায় সিলেটে পাহাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বর্ষা মৌসুমে বন্যা আর পাহাড় ধসে প্রাণ ও সম্পদহানী যেনো সিলেটবাসীর নিয়তি। বিষয়টি নিয়ে বরাবরই আতঙ্কে থাকেন সচেতন মহল। প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব একটা উল্লেখ করার মতো নয়। তবে দুর্ঘটনার পর তোড়জোড় শুরু হয় মোটামুটি সব মহলে। গত বর্ষায়’তো টিলাগড় এলাকার চামেলীবাগে ভূমিধসে নিহত হলেন বাবা-মা ও সন্তান।

এই অবস্থায় সামনে আবারও আসছে বর্ষাকাল। আজ (২৭মে) মঙ্গলবার ১৩ই জ্যৈষ্ঠ সেই হিসাবে আর ১৮ দিন। তবে প্রকৃতি দিন তারিখ গুণে বিরূপ হয়না, যখন তখন ভারী বর্ষণ শুরু হতে পারে এবং সিলেট মহানগরীসহ আশপাশের পাহাড় বা টিলাপ্রবন এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে প্রাণ ও সম্পদহানীর আশঙ্কা বেখেয়ালি ভাবে উড়িয়ে দেয়া যায়না।

বিশেষ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের পীরমহল্লা, হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া, তারাপুর চা বাগান, ব্রাহ্মণশাসন, জাহাঙ্গীরনগর, নগরীর উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এই সকল এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে কয়েকশ’ পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

এছাড়াও সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে সহস্রাধিক পরিবার প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

বাংলাদেশ পরিবশে আইনবিদ সমিতির (বেলা) হিসাব মতে, সিলেট নগর, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৪০০ পাহাড়-টিলা রয়েছে। এর প্রায় অর্ধেকের উপর বা পাদদেশে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন অনেক দরিদ্র মানুষ।

এ অবস্থায় বর্ষাকালে প্রাণহানী ঠেকাতে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেটের জেলা প্রশাসন। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ারুজ্জামান বলেন, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি তালিকা করেছি। সেই তালিকা অনুযায়ী সিলেট সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর অধিবাসীদের নিরপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। খুব ঝুঁকিপূর্ণ টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশের অধিবাসীদের প্রয়োজনে উচ্ছেদের কথাও বলা হয়েছে।

এ ব্যপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বলেন, আমরা প্রচারণা শুরু করেছি। খুব তাড়াতাড়ি মাইকিংয়ের পাশাপাশি সিলেটের প্রথম জনপ্রিয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের চিন্তাভাবনাও আছে আমাদের।

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনুর রুবাইয়াৎ বলেন, আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রয়োজনে উচ্ছেদের কথাও জানাচ্ছি সবাইকে। আমাদের প্রস্তুতি আছে।

For more information

আরো দেখুন