হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে গ্রেপ্তার: দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু
আওয়াজ ডেক্সঃ – ৯ মার্চ ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ও আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যেভাবে ধরা পড়ল শীর্ষ সন্ত্রাসীরা
আইএসপিআর জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) ও আলমগীর হোসেন (৩৪) মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। সম্প্রতি ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীর ভারত সফরের সময় ভারতে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের তালিকা হস্তান্তর ও তাদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, তাঁরা বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছিলেন বলে জানা গেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও হস্তান্তর
গ্রেপ্তারের পর গত রোববার ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন। আইএসপিআর এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই তাঁদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার (Extradition) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে নৃশংস হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই তরুণ নেতা। এই হত্যাকাণ্ড সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতিক্রিয়া
এর আগে গত ৪ মার্চ সিলেটে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাদি হত্যার বিচার নিয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “হাদী হত্যার বিচার নিয়ে আমরা একচুলও পিছপা হব না। যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আসতেই হবে।” প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারের খবরে এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
For more information
আরো দেখুন