স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট:
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে নতুন রূপে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক জালালাবাদ পার্ক। তবে আগের রূপে নয়, ব্যাপক সংস্কার, দৃষ্টিনন্দন আধুনিকায়ন এবং পূর্ণাঙ্গ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক হাব হিসেবে এটিকে গড়ে তুলে নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। পার্কটির নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে পার্কটির সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের অবিলম্বে আধুনিকীকরণ কাজের নকশা চূড়ান্ত করে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে সিসিক প্রশাসক জানান, সিলেট নগরীতে মুক্ত বাতাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে হাঁটাচলা ও শিশুদের নিরাপদ বিনোদনের জায়গার সংকট রয়েছে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জালালাবাদ পার্কটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। এখানে শিশুদের খেলার আধুনিক রাইড ও খেলার মাঠের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য প্রশস্ত ওয়াকওয়ে এবং বসার মনোরম ব্যবস্থা রাখা হবে।
পার্কের অবকাঠামোগত পরিবর্তন তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, “বর্তমান উঁচু ও পুরোনো সীমানাপ্রাচীর ও গেটের কারণে বাইরে থেকে বোঝা যায় না যে ভেতরে কোনো পার্ক রয়েছে। ফলে পার্কের প্রাচীর এমনভাবে সংস্কার করা হবে যাতে বাইরে থেকেও ভেতরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে।” দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়ি, সার্কিট হাউস এবং সুরমা নদীর মিলনস্থলের কেন্দ্রবিন্দুতে পার্কটির অবস্থান। ভৌগোলিক এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে সংস্কারের পর এটি স্থানীয় নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক হাবে পরিণত হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর শরীরচর্চার সুবিধার্থে সাগরদিঘীর পাড়ের মতো পুরোনো কারাগারের জায়গাতেও দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদারসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
For more information
আরো দেখুন