সিলেট ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেট সীমান্তে একরাতে ১৫৩ জনকে পুশইন

News Room
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২৫, ০১:৩০ অপরাহ্ণ
সিলেট সীমান্তে একরাতে ১৫৩ জনকে পুশইন

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটের একটি ও মৌলভীবাজারের দুই সীমান্ত দিয়ে ১৫৩ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার গভীর রাত থকে শুরু হয়ে রোববার (২৫মে) সকাল পর্যন্ত চলে এ পুশইন। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল শনিবার (২৪মে) গভীর রাত থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদেরকে পুশ ইন করা হয়। সীমান্ত অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওই ১৫৩ জনকে আটক করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পুশইনের এই বড় আকারের ঘটনায় সিলেটের তিনটি সীমান্ত ব্যবহার করা হয়, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর সীমান্ত দিয়ে ৭৯ জন ও পাল্লাথল সীমান্ত দিয়ে ৪২ জন ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নয়গ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৩২ জন।

সীমান্ত অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওই ১৫৩ জনকে আটক করে।

বিজিবির ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি চালান এবং তখনই দেখতে পান, ঘন জঙ্গল ও বিলপথ ব্যবহার করে ভারতীয় সীমান্ত থেকে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। আটককৃতদের প্রাথমিকভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।

উল্লেখ্য গত ১ মাসে এই নিয়ে সিলেট অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক পুশইন হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১৯০ জনে। এর আগে (১৪মে) কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ১৬ জন (২৪মে) ২১ জন, ২৪ মে গভীর রাত (২৫মে) সকাল সর্বশেষ ১৫৩ জনকে পুশইন করে বিএসএফ।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ তার নাগরিক বা বিদেশি নাগরিকদের অন্য দেশের ভূখণ্ডে বলপূর্বক ঠেলে দেওয়া (পুশইন) করতে পারে না। এই ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিপন্থী। সিলেট সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ধারাবাহিকভাবে পুশইনের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং সীমান্তে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে প্রতিপালন করা প্রয়োজন।

For more information

আরো দেখুন