বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সিলেট, স্থানীয় নারী সমাজ ও এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে একের পর এক অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ইউসুফ ওমর সালেকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার এসব বক্তব্যে সিলেটজুড়ে সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, শনিবার (৩ অক্টোবর) ওই শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সিলেটের নারীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেন। মন্তব্যের ঘরে তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আরও বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ উক্তি করেন এবং উসকানিমূলক বার্তা ছড়ান। এসব পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ পুরো সিলেটে নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা একে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও একটি অঞ্চলের মর্যাদায় সরাসরি আঘাত বলে আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তীব্র তোপের মুখে পড়ে পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দিয়ে নিজের বক্তব্যকে ভুল উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বারবার এমন ঘটনায় কেবল সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়; বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়টির আরেক শিক্ষার্থীর এমন আচরণে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী মিনহাজ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শাবিপ্রবি সিলেটের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি থাকে, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধার দাবি রাখে। কিন্তু বারবার সিলেটকে হেয় করে এমন বিদ্বেষমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করার সাহস না পায়।”
এ বিষয়ে আইপিই বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হাসান বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ অপ্রত্যাশিত। এমন ঘটনা স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে। আমরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্র উপদেষ্টাকে অবহিত করেছি এবং সেখান থেকে প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হয়েছে। তারা এটি খতিয়ে দেখছেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুখলেসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে বৈঠক করেছি
For more information
আরো দেখুন