নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। এর ফলে জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান সংস্কারের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি তৈরি হলো।
গণভোটের ফলাফল একনজরে:
মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।
ভোট প্রদানের হার: ৬০.২৬ শতাংশ।
‘হ্যাঁ’ ভোট: ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন।
‘না’ ভোট: ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
‘হ্যাঁ’ জয়ে সংবিধানে যে আমূল পরিবর্তনগুলো আসছে:
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সংবিধানের ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য (Balance of Power) তৈরি করা।
১. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা: এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর (দুই মেয়াদ) প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে থাকতে পারবেন না। এর ফলে ক্ষমতার একক কেন্দ্রীভূত হওয়ার পথ বন্ধ হবে।
২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: আগামী জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষের পাশাপাশি একটি উচ্চকক্ষ থাকবে, যেখানে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে সদস্য নির্বাচিত হবেন। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন বাধ্যতামূলক হবে।
৩. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া প্রায় সব কাজেই বর্তমানে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হয়। তবে নতুন সংস্কার অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে নিয়োগ দিতে পারবেন।
৪. সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা: সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে সংসদে কোনো বিষয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়ানো হবে।
পরবর্তী ধাপ: সংবিধান সংস্কার পরিষদ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন বাস্তবায়নের তৃতীয় স্তর শুরু হবে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। এই পরিষদ প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।
For more information
আরো দেখুন