ভিসা স্থগিতের নেপথ্যে ‘পাবলিক চার্জ’ আইন
সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (State Department) এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। মূলত এসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর দেশটির সরকারি ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের (Welfare) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন—এমন আশঙ্কায় ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশসমূহ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নাম থাকা ৭৫টি দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
দক্ষিণ এশিয়া: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটান (তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা এই তালিকার বাইরে রয়েছে)।
- অন্যান্য: রাশিয়া, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিশর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইয়েমেন।
এই দেশগুলোর কনস্যুলার অফিসগুলোতে ইতিমধ্যে বিশেষ স্ক্রিনিং পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
ভিসা প্রত্যাখানের নতুন মানদণ্ড
২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি করা নির্দেশনায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারেন বলে মনে হলে তাঁর আবেদন নাকচ করা হবে। এক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়গুলো হলো:
স্বাস্থ্য ও বয়স: বয়স্ক বা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা থাকা ব্যক্তি।
শারীরিক অবস্থা: এমনকি অতিরিক্ত ওজনের (Obesity) মানুষকেও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ভিসা না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
দক্ষতা: ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতা বা পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা না থাকা।
চিকিৎসা সহায়তা: যাদের দীর্ঘকালীন চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
মুখপাত্রের বক্তব্য: ‘আমেরিকানদের উদারতার অপব্যবহার রোধ’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “যারা বিদেশি নাগরিক হয়েও আমেরিকার সরকারি ত্রাণ বা সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারেন, তাঁদের প্রবেশ ঠেকানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্দিষ্ট ওই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের কোনো নতুন ভিসা ইস্যু করা হবে না।”
বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপর প্রভাব
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ১২০টি দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ (প্রায় ৫৪.৮%) কোনো না কোনোভাবে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম হওয়ায় নতুন এই ভিসা নীতির ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও ইমিগ্রেশন প্রত্যাশী বাংলাদেশি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
এক নজরে নতুন বিধিনিষেধ:
| বিধিনিষেধের বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| কার্যকরী তারিখ | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর। |
| আক্রান্ত দেশ | বাংলাদেশসহ ৭৫টি রাষ্ট্র। |
| বাতিলের কারণ | সরকারি সহায়তার (Welfare) ওপর নির্ভরশীলতা রোধ। |
| বিশেষ মানদণ্ড | স্বাস্থ্য, বয়স, ওবেসিটি এবং আর্থিক সচ্ছলতা। |
For more information
আরো দেখুন