সিলেট , ,

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

News Room
প্রকাশিত December 6, 2025, 12:06 PM
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভিসার অপব্যবহার রোধে কঠোর হচ্ছে ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাজ্যের কঠোর নতুন ভিসা নীতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তিতে। ভিসার অপব্যবহার এবং শিক্ষার্থীভিত্তিক অভিবাসন জটিলতা বাড়ায় অন্তত নয়টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী গ্রহণে আবেদন বাতিল ও স্থগিত করছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুটি দেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকির’ দেশ হিসেবে বিবেচনা করে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন নাকচ ও আশ্রয় প্রার্থনার সংখ্যা বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন আরও কঠোরভাবে শিক্ষার্থী যাচাই–বাছাই করতে বলা হচ্ছে। দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তামন্ত্রী ডেম অ্যাঞ্জেলা ইগল সতর্ক করেছেন যে, ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়ার জন্য ভিসাব্যবস্থাকে ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।


ভর্তি স্থগিত করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা

হোম অফিসের নতুন নীতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়ে। আগে এ সীমা ছিল ১০ শতাংশ। এই কারণে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ভর্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

  • ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার: ২০২৫ সালের শরৎকাল পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে সব ধরনের ভর্তি স্থগিত।

  • ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন: বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে স্নাতক শিক্ষার্থী গ্রহণ করছে না।

  • ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন: পাকিস্তান থেকে ভর্তি স্থগিত।

  • লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ।

  • সান্ডারল্যান্ড ও কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়: বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আবেদন গ্রহণ স্থগিত।

  • হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উভয় দেশের শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ।

  • এছাড়াও অক্সফোর্ড ব্রুকস এবং বিপিপি সহ আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীরা সিএএস লেটার (CAS Letter) পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।


উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ভিসা প্রত্যাখ্যান

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর তথ্যমতে, এই কঠোরতার পেছনে রয়েছে ভিসা প্রত্যাখ্যানের উদ্বেগজনক হার। এই বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ভিসা ২২ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ১৮ শতাংশ আবেদন নাকচ হয়েছে—যা নতুন ৫ শতাংশ সীমার চেয়ে অনেক বেশি। একই সময়ে হোম অফিস মোট যে ২৩ হাজার ৩৬টি আবেদন নাকচ করেছে, তার অর্ধেকই এই দুই দেশের শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল অ্যাডমিশনস-এর জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট মো. মুস্তাফিজুর রহমান এই প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই কোর্স শেষ না করে আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন কিংবা ভিসা ক্যাটাগরি পরিবর্তন করেন। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।”

অন্যদিকে, পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনায় সহায়তাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্স অ্যাডভাইজর্স-এর প্রতিষ্ঠাতা মরিয়ম আব্বাস আক্ষেপ করে বলেন, “প্রকৃত শিক্ষার্থীরা শেষ ধাপে এসে আটকে যাচ্ছে—এটি সত্যিই হৃদয়বিদারক।”

যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হাজারো শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

For more information

আরো দেখুন