সিলেট ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান: বিক্ষোভ ও মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ
আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান: বিক্ষোভ ও মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

খামেনির দেশত্যাগের খবর ‘গুজব’: অবস্থান পরিষ্কার করল ইরান

আকাশসীমা বন্ধের নাটকীয় সিদ্ধান্ত

অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য বহিঃশক্তির সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) ভোরে ইরান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ‘নোটিশ টু এয়ার মিশনস’ (NOTAM)-এর মাধ্যমে জানানো হয় যে, তেহরানের আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক সিভিল ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ থাকবে। তবে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। লুতফান্সাসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে ইরানের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে।

ট্রাম্পের দাবি: মৃত্যুদণ্ড ও হত্যা স্থগিত

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে তাঁকে ‘নির্ভরযোগ্য সূত্র’ থেকে অবহিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমাকে বলা হয়েছে ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং আপাতত কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই।”

তবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি আবারও সহিংসতা শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ (সামরিক পদক্ষেপসহ) নিতে পারে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “সহযোগিতা আসছে (Help is on the way)।”

মানবাধিকার ও জি-৭ এর অবস্থান

ইরানে চলমান এই দমনে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর (যেমন HRANA ও Amnesty International) দাবি অনুযায়ী:

  • গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২,৫০০ থেকে ১২,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।

  • হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের অনেককে দ্রুত বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘ইচ্ছাকৃত সহিংসতার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা ইরান সরকারকে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের পাল্টা অভিযোগ

অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা দেশের এই বিশৃঙ্খলার পেছনে বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অবশ্য জানিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা তেহরানের নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখেই ইরান কিছুটা নমনীয়তা দেখাচ্ছে।


এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:

  • আকাশসীমা: সাময়িক বন্ধের পর পুনরায় চালু হয়েছে।

  • নিহত: মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে ২,৫০০ এর বেশি।

  • ট্রাম্পের অবস্থান: হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি, তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা রাখা।

  • আন্তর্জাতিক চাপ: জি-৭ ও ইইউ-র কঠোর সমালোচনা ও অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার হুমকি।

    For more information

    আরো দেখুন