নিজস্ব প্রতিবেদক,তাহির তন্ময় | ৪ মার্চ ২০২৬
সিলেটসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের হয়রানি বন্ধ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৭ দফা কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সোমবার (২ মার্চ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের ৭ দফা নির্দেশনায় যা আছে:
১. হাসপাতালে আসা রোগীদের জন্য বিনামূল্যে হুইলচেয়ার ও ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ২. জরুরি বিভাগের কাছাকাছি দৃশ্যমান স্থানে ট্রলি-হুইলচেয়ার রাখতে হবে এবং ‘বিনামূল্যে সরবরাহ’ সংক্রান্ত সাইনবোর্ড টানাতে হবে। ৩. নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরা সেবাকর্মী বা ওয়ার্ডবয়রাই কেবল হুইলচেয়ার বা ট্রলি বহন করবেন। ৪. বহিরাগত কেউ ট্রলি বা হুইলচেয়ার বহন করতে পারবে না এবং এ কাজে কোনো ধরণের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। ৫. প্রতিটি হাসপাতালকে পুরোপুরি দালালমুক্ত রাখতে হবে। দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। ৬. দালাল ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ৭. যেকোনো সেবামূলক কাজের বিনিময়ে অনৈতিক লেনদেন বা ‘বখশিস’ চাওয়া কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেলে খুশির হাওয়া
সরকারের এই নির্দেশনার খবর সিলেটে পৌঁছানোর পর এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার আলো দেখা দিয়েছে। নিয়মিত সেবা প্রার্থীরা মনে করছেন, যদি এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে তদারকি করা হয়, তবে ওসমানীতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ট্রলি সিন্ডিকেট এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী স্বজন বলেন, “ওসমানীতে ট্রলি পেতে বা সিট পেতে যে টাকা দিতে হতো, এখন যদি সরকার এটা বন্ধ করতে পারে, তবে আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বড় উপকার হবে।”
বাস্তবায়ন ও তদারকি
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নির্দেশনা অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ঝটিকা পরিদর্শনের মাধ্যমে তদারকি করা হবে।
For more information
আরো দেখুন