সিলেট , ,

কানাডার বাজেটে বড় সুখবর: স্থায়ী হচ্ছেন ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দা

News Room
প্রকাশিত November 7, 2026, 03:07 PM
কানাডার বাজেটে বড় সুখবর: স্থায়ী হচ্ছেন ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দা

কানাডার বাজেটে বড় সুখবর: স্থায়ী হচ্ছেন ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দা শাহজাহান সেলিম বুলবুল, কানাডা:

অটোয়া সংসদে ২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই কানাডা সরকার আগামী তিন বছরের নতুন ইমিগ্রেশন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন হাউস অব কমন্সে বাজেট উপস্থাপন করেন। এই বাজেটেই স্থায়ী ও অস্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা এবং কানাডায় অবস্থানরত অস্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বড় একটি স্থায়ী বসবাসের উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা হলো, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডায় অবস্থানরত সর্বোচ্চ দুই লাখ অস্থায়ী বাসিন্দাকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে রূপান্তরের প্রস্তাব। এর মধ্যে বিশেষভাবে এক্সপ্রেস এন্ট্রি বা প্রভিনশিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম (পিএনপি)-এর যোগ্য এক লাখ কর্মীর কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রদেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, যাতে আঞ্চলিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নির্বাচন আরও কার্যকর হয়। বাস্তবায়নের জন্য সরকার ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে চার বছরে ৩০ কোটি ২৩ লাখ ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে।

একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, ২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ সালের প্রত্যেক বছর কানাডা ৩ লাখ ৮০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণ করবে এবং প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অস্থায়ী বাসিন্দাদের বড় অংশই হবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মী। তবে এই সংখ্যাটি নতুন আগমনকারীদের লক্ষ্য, কানাডায় ইতোমধ্যে থাকা সব অস্থায়ী বাসিন্দার মোট সংখ্যা বা আবেদন জমার সীমা নয়।

বাজেটে টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রাম সংস্কারের জন্যও পাঁচ বছরে ১৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব এসেছে। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক শ্রমবাজারের সঙ্গে প্রোগ্রামকে আরও ভালোভাবে মেলানো, প্রক্রিয়াকরণের সময় কমানো এবং নিয়োগকর্তাদের নিয়ম মানার বিষয়টি জোরদার করা। তবে এলএমআইএ-সংক্রান্ত সম্পূর্ণ নতুন নিয়ম এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তাই আপাতত বর্তমান নিয়মই বহাল থাকবে।

এছাড়া বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের ক্ষেত্রে দূর থেকে মুখের ছবি জমা দেওয়ার সম্ভাব্য নতুন নিয়ম, জমে থাকা আশ্রয় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সংস্থান, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন বা শোষণের শিকার অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তায় তহবিল এবং নবাগতদের সোশ্যাল ইনস্যুরেন্স নম্বরসহ অন্যান্য সেবা সহজে পাওয়ার জন্য সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় উন্নত করার প্রস্তাবও বাজেটে এসেছে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেওয়া জরুরি, বাজেটে উদ্যোগের ঘোষণা এলেও এখনো এর পূর্ণাঙ্গ যোগ্যতার শর্ত, আবেদন পদ্ধতি বা নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। অর্থাৎ ওয়ার্ক পারমিট, স্টাডি পারমিট কিংবা এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোফাইল থাকলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুযোগ পাবেন বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে এক লাখ কর্মীর কথা বলা হলেও এর অর্থ এই নয় যে, অতিরিক্ত এক লাখ এক্সপ্রেস এন্ট্রি আমন্ত্রণ আসবে বা সবার প্রাদেশিক মনোনয়ন নিশ্চিত। এসব বিষয়ে আইআরসিসি ও প্রদেশগুলোর বিস্তারিত নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আগমন ৭১ শতাংশ, নতুন কর্মী আগমন ৫৭ শতাংশ এবং নতুন আশ্রয় আবেদন ৬৮ শতাংশ কমেছে। সরকারের বার্তা অনেকটা এমনই যে, বাইরে থেকে আগমন নিয়ন্ত্রিত থাকবে, কিন্তু কানাডায় ইতোমধ্যে থাকা, কাজ করা ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানুষদের স্থায়ী হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত করার চেষ্টা হবে। তাই এই মুহূর্তে করণীয় হলো বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখা, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা এবং আইআরসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কোনো এজেন্ট বা সামাজিক মাধ্যমের কানাডার বাজেটে বড় সুখবর: স্থায়ী হচ্ছেন ২ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দাদাবিতে বিভ্রান্ত না হওয়া।