নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিলেট-১ আসনে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের গণজোয়ার দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ দিশেহারা হয়ে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়স্থ প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
ঋণ ও পার্টনারশিপ নিয়ে অপপ্রচারের জবাব: মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিপক্ষ প্রার্থীর নিজের ৮৪০ কোটি টাকা ঋণের তথ্য আড়াল করতেই তারা মাওলানা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঋণের মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। এছাড়া সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বা অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সাথে মাওলানার কোনো পার্টনারশিপ ব্যবসা ছিল না। এসব ডাহা মিথ্যা কথা বলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সিলেট-১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্কলার্সহোম ও লতিফা শফি কলেজের শিক্ষক সম্মেলনে বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া সিলেট-৩ ও সিলেট-৪ আসনেও জোটের প্রার্থীদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু ইস্যু: সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর অভিযোগ নাকচ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াতই মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি পাহারা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমতায় গেলে অন্য ধর্মের মানুষ অনুষ্ঠান পালন করতে পারবে না—এমন প্রচার হাস্যকর। জামায়াত আমীর প্রতিষ্ঠিত উইমেন্স মেডিকেল কলেজে বিদেশী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করে, যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
সন্ত্রাস ও প্রশাসনের ভূমিকা: সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হলেও রাজনৈতিক চাপে তাদের ছেড়ে দিয়ে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হচ্ছে। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় ওসির অপসারণ দাবি করার মাধ্যমে অপরাধীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার না করলে ভোটের মাঠে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
ব্রিফিংয়ে সিলেট-১ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. নূরুল ইসলাম বাবুলসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
For more information
আরো দেখুন