সিলেট ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহারের ছক: সিলেটে সীমান্তপথে অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ণ
নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহারের ছক: সিলেটে সীমান্তপথে অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নাশকতার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযানে নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এসব অস্ত্র মূলত নির্বাচনের দিন ও আগে-পরে সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে।

সিলেটের যেসব সীমান্ত পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ: তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সিলেট অঞ্চলের বেশ কয়েকটি অরক্ষিত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক দেশে ঢুকছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • সিলেট জেলা: কানাইঘাটের বিভিন্ন পয়েন্ট, জৈন্তাপুরের মিনাটিলা, জাফলংয়ের কাটরি।

  • সুনামগঞ্জ জেলা: ছনবাড়ি বাজার ও চারাগাঁও সীমান্ত।

  • মৌলভীবাজার জেলা: বড়লেখার তারাদরম সীমান্ত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, চোরাকারবারিরা ছোট অস্ত্রের চালান পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বড় চালানগুলো অন্য পথে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল ব্যবহার করে থাকে।

আইজিপি বাহারুল আলমের বক্তব্য: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে বলেই দেশের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের টহল ও তল্লাশিচৌকি সর্বোচ্চ সক্রিয় আছে।” কারাগার ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া কোনো অস্ত্রই জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিজিবি ও র‍্যাবের বিশেষ নজরদারি: বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সীমান্ত থেকে দেশের ভেতরে ৮ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিজিবির কড়া নজরদারি রয়েছে। সম্প্রতি জৈন্তাপুরের কাটাগাং এবং কানাইঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযানে ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটরসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। র‍্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ নিশ্চিত করেছেন যে, নাশকতার উদ্দেশ্যে মজুত করা এসব অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে দেড় লাখ সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে একটি কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির কাজ চলছে।

For more information

আরো দেখুন