বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসীদের সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ ‘কার্ড’ প্রথা চালুর ঘোষণা দেন।
তরুণ ও বেকারদের জন্য ১ কোটি কর্মসংস্থান: তারেক রহমান তাঁর ভাষণে তরুণ প্রজন্মের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পর্যায়ক্রমে দেশে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া তারুণ্যের প্রথম ভোট ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে দেওয়ার জন্য তিনি তরুণ ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা: নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রথা চালু করবে। এর মাধ্যমে পরিবারের নারী প্রধানের নামে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষকদের সরাসরি সার ও বীজে ভর্তুকি পৌঁছে দিতে দেওয়া হবে ‘ফার্মার্স কার্ড’।
নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা: নারীদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক রাখা এবং কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার বুলিং ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং শহরগুলোতে নারীদের জন্য বিশেষ ‘ইলেকট্রিক পরিবহন’ ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কথা বলেন তিনি।
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’: দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এর মাধ্যমে বিমানবন্দর ও বিনিয়োগে হয়রানি বন্ধ করা হবে। বিদেশ গমনেচ্ছুকদের জন্য সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও প্রশাসন: ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতির ভিত্তিতে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে। প্রশাসনে পদোন্নতি হবে একমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
For more information
আরো দেখুন