সিলেট ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

হবিগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকে চাঁদাবাজি!

Stuff
প্রকাশিত অক্টোবর ১২, ২০২৩, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
হবিগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকে চাঁদাবাজি!

আওয়াজ প্রতিবেদক:: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা দরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক উন্নয়নের নামে টাকা আদায় (দানবাক্স বসিয়ে)’র অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের তীর পৌরশহরের আজমিরীগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হেলথ কেথার প্রোভাইডার সুব্রত কুমার হালদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

এমনকি দরিদ্র রোগীরা ওষুধ আনতে ক্লিনিকে গেলে টাকা দানবাক্সে ফেলার পরই ওষুধ দেয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভুগীরা বলছেন, ওষুধ আনতে গেলেই দিতে হয় পাঁচ থেকে দশ টাকা। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছেনএটি বাধ্যতামুলক নয়। যাদের দেয়ার ইচ্ছে হবে তারাই দিবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে ৩০ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। দরিদ্র রোগীদের জন্য একজন করে হেলথকেয়ার প্রোভাইডার দায়িত্বে রয়েছেন প্রতিটি ক্লিনিকে। গড়ে প্রতিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন ১০০ রোগী সেবা নেন।

সরজমিনে পৌরসভার আজিমনগরে আজমিরীগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ‘দানবাক্স আজমিরীগঞ্জ সিসি’ লিখা একটি কাটের বাক্স ক্লিনিকের ভিতরে ঝুলানো রয়েছে। সেখানেই সেবা নিতে আসা রোগীরা ওষুধ নেয়ার বিনিময়ে টাকা দিচ্ছেন।

ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা মোছা. নুফুরউন আক্তার নামে এক সেবাগ্রহীতা ১০ টাকা দানবাক্সে দিচ্ছেন দেখে টাকা কেন দিচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘তারা বলছে টাকা দিতে তাই টাকা দিচ্ছি। এক পাতা (১০টি) প্যারাসিটামলও কিছু আয়রণ ট্যাবলেট দিয়েছে তারা।’পৌর এলাকার ইলামনগরের বাসিন্দা নাসু মিয়া নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ থাকলেও দানবাক্সে টাকা না দিলে ওষুধ মিলে না। টাকা দিয়েই ওষুধ নিয়েছি।’

ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে থাকা সুব্রত হালদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নির্দেশে দানবাক্স দেয়া হয়েছে। ক্লিনিকের উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছায় সেবাগ্রহীতারা যা ইচ্ছে তা দানবাক্সে দান করেন।’ টাকা ছাড়া ওষুধ না দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ওষুধ সবাইকে বিনামুল্যেই দেয়া হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আজমিরীগঞ্জ সিসি বলেন কিংবা বাংলাদেশের যেকোন ক্লিনিক বলেন এটা পাবলিক সরকার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠান। এখানে ৫০ জন কিংবা ১০০ জন সেবাগ্রহীতা সেবা নেন। তারা স্ব-ইচ্ছায় যা দান করবেন, তা দিয়ে ক্লিনিকের টুকটাক উন্নয়ন কাজ হবে। তবে টাকা দিতেই হবে -এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।’

ক্লিনিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর লোকজন স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে টাকা দিয়ে সেবা নিবেন কেন -এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখানে বাধ্যতামূলক তো কিছু না। যদি ক্লিনিকটিতে এমন হয়, তবে ওই ক্লিনিকে কর্তব্যরত প্রোভাইডারকে আমি বিষয়টি জিজ্ঞেস করবো।’