সিলেট ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

তিন পণ্যের দাম তিন সপ্তাহেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি

Stuff
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২৩, ০৭:২২ অপরাহ্ণ
তিন পণ্যের দাম তিন সপ্তাহেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি

আওয়াজ ডেস্ক:: ২১ দিনে ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা করেও দেশের কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে আলু, পেঁয়াজ ও ডিম বিক্রি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আলু প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৪০-৪৫ টাকায় এবং ডিম ৫০-৫২ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ তিনটি পণ্যের দাম প্রায় কাছাকাছি।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম বেঁধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী খোলাবাজারে প্রতিটি ডিম ১২ টাকা করে ৪৮ টাকা হালি, আলু প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা এবং পেঁয়াজ ৬৪ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২১ দিনে বাজারে কখনও পণ্যগুলো ওই দামে বাজারে পাওয়া যায়নি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর দারুসসালাম এলাকার কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি হালি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ৫০ ও দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জানতে চাইলে বিক্রেতা জিয়াউর রহমান বলেন, সরকার দাম বেঁধে দিলেও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। আমরা খুচরা বিক্রেতারা কম দামে কোথাও মাল পাচ্ছি না। এ সময় কথা হয় বাজার করতে আসা রুহেনা আক্তারের সঙ্গে। তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। রুহেনা দোকান থেকে আলু, কাঁকরোল ও বেগুন কিনেছেন। দামের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা দেখান কোথায় এই দামে জিনিসপত্র মেলে? আমরা কাজের মানুষরা কোথাও কম দামে জিনিস পাই না।

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কে বি বাজারেও দেখা যায় একই চিত্র। এ বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালিতে। পেঁয়াজ কোথাও ৮৫, কোথাও ৯০ টাকা কেজি দরে। আলুর ৫০ টাকা কেজি। বাজারের ব্যবসায়ী রনি আহমেদ বলেন, কোথাও সরকারের নির্ধারণ করা দামে পেঁয়াজ, ডিম, আলু বিক্রি হচ্ছে না। পাইকারিতেই কম দামে কিছু কেনা যাচ্ছে না। তাই খুচরা বাজারেও এর চেয়ে কম দামে জিনিসপত্র বিক্রি করা যাচ্ছে না।

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৭ দিন অভিযান চালিয়েছে। এ সময় সারা দেশের ৮৯৫টি বাজারে অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত দামে পণ্য তিনটি বিক্রি না করার দায়ে ১ হাজার ৫২৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর রিপন গতকাল সদর উপজেলার এলাইড কোল্ডস্টোরেজ তদারকি করে ঢাকার সুপারশপ চালডালকে ১৪ টন ও আগোরাকে পাঁচ টনসহ মোট ১৯ টন আলু সরকার নির্ধারিত দামে সরবরাহের ব্যবস্থা করেন।

বিক্রেতারা কেন সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি করছেন না তা জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ২৭ টাকা কেজিতে হিমাগারের আলু বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হয় না বলে তারাই স্বীকার করেছেন। তারপরও তারা কেন সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রিতে অনীহা দেখাচ্ছেন সেটি আমরা বুঝতে পারছি না। তবে মুন্সীগঞ্জে বর্তমানে ৩৬ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকার সুপারশপগুলোতে বর্তমানে ৩৬ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি নিশ্চিত করা হয়েছে। তা ছাড়া ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা চলে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি অভিযান না চালাতাম তাহলে আলু, পেঁয়াজের দাম আরও বেড়ে যেত। এখন অনেকটা স্থিতিশীল আছে। মিয়ানমার ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের মজুদ কম। তবে অনেক বাজারে কৃষকরা দুয়েক বস্তা পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাদেরকে তো ধরে শাস্তি দেওয়া যায় না।

ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক সফিকুজ্জামান জানান, মুন্সীগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তা অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত বাজারগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে।