সিলেট ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

জলাবদ্ধ নগরীতে ঈদ আনন্দে ভাটি

Stuff
প্রকাশিত জুন ১৭, ২০২৪, ০৮:৫০ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধ নগরীতে ঈদ আনন্দে ভাটি

আওয়াজ ডেস্ক :: ভারি বৃষ্টিতে সিলেট নগরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বেশিরভাগ এলাকা। ঈদের সকালে এমন পরিস্থিতি দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। ভোররাতে আকস্মিকভাবে সৃষ্ট এই বন্যায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটের মানুষ। বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করার পাশাপাশি অনেক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন কুরবানির জন্য ক্রয় করা পশু নিয়ে। পশু কিনেও কোরবানি দিতে পারেননি অনেকে।
সোমবার ভোরে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমনটা জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। এরই মধ্যে কুরবানির পশুটিকে পানি থেকে রক্ষা করতে দিশেহারা হয়ে পড়েন অনেকেই। জলাবদ্ধতার কারণে নগরের অনেক ঈদগায়ের ঈদের জামাত পেছানো হয়েছে। বাসাবাড়ি ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পশু জবাই সম্ভব হয়নি।
সিলেটের মিরাবাজার এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমার এলাকার রাস্তায় সকালে হাঁটু পর্যন্ত পানি ছিল। বাসাবাড়িতেও পানি ছিল। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমি ঈদের নামাজ পড়তে পারিনি। কুরবানির জন্য একটি গরু কিনেছিলাম। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরু বাসার তিনতলার ছাদে নিয়ে তুলেছি। কোরবানি করার সুযোগ নেই।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৮৬ মিলিমিটার।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সান্তনু দত্ত সন্তু বলেন, ‘রোববার রাতেই আমার ওয়ার্ডের তালতলা, মাছুদিঘীর পাড়, জামতলা, মনিপুরী রাজবাড়ি, রামের দিঘীরপাড়, খুলিয়া পাড়া, তোপখানাসহ প্রায় সব এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।’
এদিকে পাহাড়ি ঢলে নগরের বাইরে উপজেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষত সুনামগঞ্জ শহরে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ পৌর শহ‌রের বেশ কয়েকটি এলাকার। এসব এলাকার বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।
এছাড়াও জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুর উপজেলার অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। জেলার অন্তত শতা‌ধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক ত‌লিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বা‌সিন্দারা।