সিলেট ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ব্যতিক্রমী, নান্দনিক বধ্যভূমি সিলেটের শহীদ স্মৃতি উদ্যান

Stuff
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ব্যতিক্রমী, নান্দনিক বধ্যভূমি সিলেটের শহীদ স্মৃতি উদ্যান

আওয়াজ ডেস্ক:: সিলেট ক্যাডেট কলেজের পেছনের সালুটিকর বধ্যভূমি হাজারো বাঙালির রক্তে রঞ্জিত। অবশেষে স্বাধীনতার ৫২ বছর পর ৬৬ শহীদের পরিচিতি দিয়ে গত মার্চ মাসে উদ্বোধন হয় উদ্যানের।
উদ্যোক্তারা বলছেন, এটা একমাত্র স্মৃতি উদ্যান, যাতে শহীদদের নাম অনুসন্ধান করে সন্নিবেশিত করা হচ্ছে। দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে উদ্যানটি। এবারই প্রথম বারের মতো বিজয় দিবসে জানানো হবে শ্রদ্ধা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নীল আকাশে এখনো উড়ে বেড়ায় শকুনের দল। যেনো টিলায় টিলায় খুজছে লাশের সারি। সালুটিকরের এই গণকবরটি সবার কাছেই বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত থাকলেও এতদিন এটি পড়েছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়। ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল এই টিলাভূমি। ছিল না কোনো স্মৃতিচিহ্নও। সেনানিবাসের সংরক্ষিত এলাকায় এই বধ্যভূমির অবস্থান হওয়ায় সাধারণের প্রবেশাধিকারও ছিল না। স্বাধীনতার ৫২ বছর পর সিলেট ক্যাডেট কলেজের পেছনে সালুটিকর বধ্যভূমিতে পাকবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ জন শহীদের নামফলকসহ উন্মুক্ত করা হয়েছে স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসজুড়ে যেখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ছিল সেখানে এখন সিলেট ক্যাডেট কলেজ। কলেজের পেছনে পূর্বদিকের টিলার পাশে মুক্তিকামী বাঙালিদের ধরে নিয়ে হত্যা করে পাকহানাদাররা। সংখ্যায় সেটি কত, তা আজো অজানা।

শহীদ স্মৃতি উদ্যান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মা সময়ের আলোকে বলেন, বিশাল চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি স্মৃতিস্তম্ভ। একটি স্তম্ভে রয়েছে এখানে শায়িত সব শহীদের নাম। এছাড়া সব শহীদের জন্য কবরের আদলে অলাদা আলাদা স্মৃতিফলকও রয়েছে। ফুল আর গাছে গাছে আচ্ছাদিত পুরো চত্বরের বিভিন্ন স্থানে এই উদ্যান নির্মাণের পটভূমি, এখানে শায়িত সব শহীদদের জীবনী লেখা রয়েছে। এই স্মৃতি উদ্যানে পাঠাঘার, জাদুঘর, কফিশপ এবং আলাদা বসার জায়গা নির্মাণ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী পত্র-পত্রিকা, গবেষণাগ্রন্থ এবং মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এ পর্যন্ত ৬৬ শহীদের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন কোনো শহীদের তথ্য পেলে তা সংযুক্ত হবে এই স্মৃতি উদ্যানে।
তিনি আরো বলেন, উদ্যানের তিনটি স্তম্ভে লেখা আছে বধ্যভূমিতে পাকবাহিনীর বীভৎসতার বিবরণ। আর এই বধ্যভূমিতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে অনুসন্ধান করে এখন পর্যন্ত পাওয়া ৬৬ শহীদের নাম-ঠিকানাসহ পৃথক ফলক স্থাপন করা হয়েছে প্রাঙ্গণজুড়ে। এই বধ্যভূমিতে পাকিস্তানিদের নৃশংসতার কথা আজো গায়ে কাটা দেয় নতুন প্রজন্মের।
৩নং খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনসার আলী বলেন, বধ্যভূমি ও শহীদ স্মৃতি উদ্যান সংরক্ষিত এলাকায় হওয়ার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। তা উন্মুক্ত করে দিলে নতুন প্রজন্ম জানবে রক্তে কেনা স্বাধীনতার মূল্য। আমরা শহীদ স্মৃতি উদ্যান উন্মুক্ত রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।