সিলেট ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ও অ্যাপাচি বিতর্ক: কেন নীরব থাকার কৌশল নিল নয়াদিল্লি?

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ণ
মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ও অ্যাপাচি বিতর্ক: কেন নীরব থাকার কৌশল নিল নয়াদিল্লি?

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধ

মোদি-ট্রাম্প কথোপকথন ও দিল্লির নীরবতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত অনুনয় করে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের এমন নাটকীয় বর্ণনায় ভারতের কূটনৈতিক মহল বিব্রত হলেও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এর কোনো জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিল্লির কৌশল হলো—প্রেসিডেন্টের প্রতিটি ‘রানিং কমেন্টারি’ বা ধারাভাষ্যের জবাব দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি না ঘটানো।

শুল্ক ও তেলের রাজনীতি

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার শাস্তিস্বরূপ ওয়াশিংটন দিল্লির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। ট্রাম্পের দাবি, এই সিদ্ধান্তে মোদি তাঁর ওপর ‘খুব একটা খুশি নন’। ভারত এই শুল্কের বোঝা কমানোর জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এই স্পর্শকাতর সময়ে কোনো পাল্টাপাল্টি মন্তব্য সেই আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যাপাচি হেলিকপ্টার: তথ্য বনাম বাস্তবতা

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ক্রয়াদেশ দিয়েছে এবং পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করছে। তবে দিল্লির সরকারি সূত্র এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

  • প্রকৃত তথ্য: ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ২৮টি অ্যাপাচি কিনেছে (২২টি বিমানবাহিনীর জন্য ও ৬টি সেনাবাহিনীর জন্য)।

  • সরবরাহ: ২০১৫ সালের ওবামা আমলের ২২টি হেলিকপ্টার অনেক আগেই সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের সফরের সময় সই হওয়া বাকি ৬টি হেলিকপ্টারও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমানে কোনো নতুন অর্ডার ঝুলে নেই।

এস জয়শঙ্করের কৌশলী বার্তা

লুক্সেমবার্গে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, দূরে বসে থাকা মানুষ অনেক সময় অনেক কথা বলবে—কখনো মাথা খাটিয়ে, কখনো না বুঝে, আবার কখনো স্বার্থপরের মতো। কিন্তু ভারতকে তার নিজের জাতীয় স্বার্থেই কাজ করতে হবে। জয়শঙ্কর আরও মনে করিয়ে দেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনার সময় অনেক দেশ ভারতকে পরামর্শ দিলেও ভারত তার নিজস্ব সিদ্ধান্তে অটল ছিল।

দিল্লির অগ্রাধিকার: তর্কে জেতা নয়, চুক্তি করা

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে তর্কে জেতা এখন ভারতের অগ্রাধিকার নয়। বরং ভারতের মূল লক্ষ্য হলো: ১. শুল্ক হার কমানো। ২. বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করা। ৩. ভারতের জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা স্বার্থ রক্ষা করা।

সারসংক্ষেপ: ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরঞ্জিত বক্তব্য বা ভুল তথ্য সংশোধন করার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখাকেই এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

For more information

আরো দেখুন